পবিত্রতা: বেশিরভাগ ফকিহ ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের বীর্য পবিত্র,
নাপাক না ।
কাপড়ে লাগলে: বীর্য কাপড়ে লাগলে সম্পূর্ণ কাপড় ধোয়া ফরজ নয়। শুকিয়ে গেলে ঘষে তুলে ফেলা যায় অথবা ভেজা থাকলে ধুয়ে নেওয়া যায়।
- ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র.)-এর মতে, মানুষের বীর্য পবিত্র (তাহির)।
- তাদের প্রধান দলিল হলো হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেন—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাপড়ে বীর্য লেগে থাকলে তিনি কখনো তা ধুয়ে ফেলতেন, আবার কখনো তা শুকিয়ে গেলে নখ দিয়ে খুঁটিয়ে বা ঘষে পরিষ্কার করে ফেলতেন এবং সেই কাপড় পরেই নামাজ পড়তেন। যদি এটি সম্পূর্ণ অপবিত্র (নাজিস) হতো, তবে শুধু ঘষে পরিষ্কার করাই যথেষ্ট হতো না, পানির ব্যবহারে ধোয়া বাধ্যতামূলক হতো।
- এই মতের সপক্ষে যুক্তি হলো, বীর্য থেকেই মানুষের সৃষ্টি, আর আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত ও পবিত্র হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
গোসল ফরজ হওয়ার নিয়ম
- উত্তেজনা সহকারে নির্গমন: যৌন উত্তেজনা বা কামভাব নিয়ে সবেগে বীর্যপাত হলে গোসল ফরজ হয়, পরিমাণ যতটুকুই হোক না কেন (এক ফোঁটা হলেও)।
- উত্তেজনা ছাড়া নির্গমন: কোনো ধরনের যৌন উত্তেজনা ছাড়া (যেমন অতিরিক্ত রোগ, ঠাণ্ডা বা প্রসাবের সাথে অনিচ্ছাকৃতভাবে) বীর্য বের হলে গোসল ফরজ হয় না, তবে এর কারণে অজু ভেঙে যায় এবং লজ্জাস্থান ধৌত করে নতুন করে অজু করতে হয়।
বীর্য, মযী ও ওদীর পার্থক্য
- বীর্য (মণী): এটি উত্তেজনার সাথে সবেগে বের হয়, এর পর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং এর নির্গমনে গোসল ফরজ হয়।
- মযী: কামভাব বা চিন্তা করার সময় লিঙ্গ থেকে যে স্বচ্ছ পাতলা রস বের হয় তা মযী। এটি নাপাক এবং এর কারণে গোসল ফরজ হয় না, শুধু অজু ও লজ্জাস্থান ধুতে হয়।
- ওদী: প্রসাবের আগে বা পরে যে সাদা ঘন তরল বের হয়, তা ওদী। এর কারণেও গোসল ফরজ হয় না, শুধু অজু ভঙ্গ হয় এবং ধৌত করতে হয়।
সংক্ষেপ:
ইসলামে বীর্যকে অপবিত্র বা প্রস্রাব-পায়খানার মতো মারাত্মক নাজিস মনে না করার একটি জোরালো ভিত্তি রয়েছে (বিশেষ করে শাফেয়ী ও হাম্বলী মতে তা পবিত্র)। তবে এটি শরীর বা কাপড়ে লাগলে নামাজের জন্য তা পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম এবং অধিকাংশ মাজহাবের মতেই বীর্য বের হলে গোসল ফরজ (আবশ্যক) হয়ে যায়, তা শরীর বা কাপড় পবিত্র হোক আর নাই হোক।
সঠিক ও বিস্তারিত মাসআলা জানতে নির্ভরযোগ্য কোনো আলেম বা মুফতির শরণাপন্ন হতে পারেন।